শিল্প মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৫ মার্চ ২০১৯

মাননীয় শিল্প প্রতিমন্ত্রী জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি’র জীবন বৃত্তান্ত

মাননীয় শিল্প প্রতিমন্ত্রী জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার ১৯৫০ সালের ৩ মার্চ ফেনী জেলার নিজকালিকাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব মাওলানা নূর মোস্তফা মজুমদার এবং মাতা আলহাজ্ব দেলবাহার বেগম। মাওলানা নূর মোস্তফা মজুমদার ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট আলেম।

 

নিজকালিকাপুর প্রাইমারি স্কুল থেকে জনাব কামাল আহমেদ মজুমদারের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। তিনি পরশুরাম পাইলট হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি এবং রাজধানী ঢাকার সলিমুল্লাহ কলেজ থেকে এইচ.এস.সি ও ডিগ্রি পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন রাজনৈতিক হয়রানির জন্য কারাগারে থাকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা এবং আইন বিষয়ের দ্বিতীয় পার্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন নি। জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হয়রানির স্বীকার হয়ে ৫ বছরেরও অধিক সময় কারাগারে ছিলেন। ২০০৭ সালের ১/১১-এ জরুরি অবস্থা জারির পর সর্বপ্রথম তাঁকে বনানীর নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

 

জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার ছাত্রজীবনে তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি সলিমুল্লাহ কলেজের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত জিএস ও ভিপি ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের তিন বার সভাপতি এবং একই সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতি শেষে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হন এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি একজন বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পায়োনিয়ার, শিক্ষানুরাগী, ক্রীড়া সংগঠক ও লেখক। সাংবাদিকতার সাথেও তিনি জড়িত। তিনি মোহনা টেলিভিশন লিমিটেড এবং এস.এস. এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান।

 

জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর সর্বপ্রথম তাঁর নেতৃত্বেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছিল এবং এজন্য তাঁকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং শেখ কামালের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল।

 

তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি। তিনি ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, শেখ ফজিলাতুন্নেছা ইসলামিক মহিলা ডিগ্রী কলেজ, বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতন, কামাল আহমেদ মজুমদার স্কুল এন্ড কলেজ, দেলবাহার প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া মিরপুর উদয়ন স্কুল, জান্নাত একাডেমি হাইস্কুল, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, কাজীপাড়া ছিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসাসহ মিরপুরের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি চলন্তিকা ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমান হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এশিয়ান অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সদস্য। তিনি বাংলাদেশ অ্যামেচার অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি এবং সার্ক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছিলেন। 

 

জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিষ্টার্ড গ্রাজুয়েটের আজীবন সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য।  

 

তিনি তৈরি পোশাক রপ্তানীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দুইবার জাতীয় পদক অর্জন করেন এবং সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক ও একাধারে ৫ বার সিআইপি নির্বাচিত হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজ সেবায় অবদানের জন্য বুদ্ধিজীবী ফোরাম কর্তৃক জাতীয় স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।

 

১৯৯০ সালে বৃহত্তর মিরপুর তথা ঢাকা-১১ আসনে উপ-নির্বাচনে তাঁর বিজয় জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭ম জাতীয় সংসদে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।\

 

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ম জাতীয় সংসদে পিটিশন কমিটি ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।  

 

জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

তিনি ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৭ জানুয়ারি, ২০১৯ বর্তমান সরকারের শিল্প প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

 

জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার বাংলা, ইংরেজি, উর্দু ও হিন্দি ভাষায় পারদর্শী। তিনি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ফ্রান্স, চীন, জাপান, ভারত, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, ডেনমার্ক, হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, ইরানসহ বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছেন। এছাড়া পবিত্র হজ্ব এবং ওমরাহ্ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ করেন।

 

মিসেস শাহিদা কামাল তাঁর সহধর্মিণী এবং তাঁরা দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতামাতা। মিসেস শাহিদা কামাল এস.এস এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেডের পরিচালক।  

 

কৃষি ও মৎস্য খামার, গাছ লাগানো, বাগান করা, পশু-পাখি পালন, খেলাধুলাসহ সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িত রাখা তাঁর অন্যতম শখ।



Share with :

Facebook Facebook